আচরণ বিধি বলতে সার্ভিস ও সেবা প্রদান চত্বর বা অফিস প্রাঙ্গনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সৌহার্দপূর্ণ আচরন, সেবা প্রত্যাশীদের প্রতি বিনয়ীভাব, দাপ্তরিক নিয়মাচার, ভদ্রোচিত পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান, পরিবেশগত ও শৃংখলাপূর্ণ চলাফেরা এবং অর্পিত দায়-দায়িত্বকে বোঝানো হয়; যা সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন নিয়ম-কানুন থেকে উদ্ভুত হয়েছে। আচরণ বিধি যথার্থ পেশাদারিত্ব অর্জনে একটি অভ্যন্তরীণ সতর্ক প্রহরী হিসাবে কাজ করে। তাছাড়া অভিন্ন আচরণ বিধির চর্চা গ্রাহকদের সন্তুষ্টি এবং কোম্পানী ও গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক উন্নয়নেও সহায়তা করে থাকে।
দৈনন্দিন অবশ্য পালনীয় কর্তব্য ও দায়িত্বসমূহ;
ক) অফিস বা সেবা প্রদান চত্ত্বরের প্রবেশ পথ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, উপস্থাপনযোগ্য ও স্বাগত জানানোর উপযোগী এবং প্রবেশ পথ রুদ্ধ করবে এমন কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা এবং সিঁড়ি পরিস্কার ও প্রতিবন্ধকতা মুক্ত রাখতে হবে।
খ) ফ্লোর পরিস্কার ও শুকনা রাখাসহ শাখার অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।
গ) প্রতিটি ডেস্ক ও কম্পিউটার পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরিয়ে ফেলতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সুন্দরভাবে গুছিয়ে রেখে কাজ করতে হবে।
ঘ) টেলিফোন সেট বাম হাতের দিকে রাখতে হবে এবং উহা নিয়মিত পরিস্কার রাখতে হবে।
ঙ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেস্কসমূহ দৃষ্টি নন্দনভাবে সাজাতে হবে এবং গ্রাহক ও অতিথিদের জন্য চেয়ার ও সোফা সুসজ্জিত থাকবে এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
চ) অফিস চত্ত্বরে প্রদর্শিত পণ্য ও সেবা পরিচয়সহ বিভিন্ন পোস্টার ও ব্রুশিয়ার হালনাগাদ থাকবে এবং অপ্রয়োজনীয় পোস্টার সরিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়াও কোম্পানীর সেবা ও প্রোডাক্টসমুহের পরিচয়বহন করে এমন কিছু ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচিতিমুলক ক্যালেন্ডার/পোস্টার/ব্রুশিয়ার প্রভৃতি রাখা যাবে না।
ছ) লাঞ্চ বক্স, ব্যাগ, টাওয়েল, লেডিস ব্যাগ ইত্যাদি গ্রাহকদের দৃষ্টির ভিতরে বা টেবিলের উপরে রাখা যাবে না।
জ) সার্ভিস কাউন্টারসহ সকল স্থান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
ঝ) বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকবে।
ঞ) বৃহৎ শাখায় অনুসন্ধান বা কাস্টমার কেয়ার কাউন্টার রাখা যেতে পারে।
ট) সিসি ক্যামেরা (নাইট ভিশনসহ) স্থাপন করা।
ঠ) কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ আচরণ প্রকাশ করতে হবে যেমন, কথা বলা, শুনা বা অভ্যর্থনার ক্ষেত্রে এমন আদর্শ বা মানকে বুঝাবে যাতে আনুগত্য, নম্রতা, নিরপেক্ষতা, সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশ পায় এবং অশালীন, অশোভনীয় ভাষা, সংকেত বা বার্তা প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দৈনিক প্রথম দর্শনে একজন কর্মকর্তা/কর্মচারী অন্য কর্মকর্তা/কর্মচারীকে সালাম দিবেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী উভয় উভয়কে “আপনি” বলে সম্বোধন করবেন। যা প্রত্যেকের ধর্মীয় দৃষ্টিতেও অনুসরণীয়।
ড) স্টাফদের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধানে বিশেষ সতর্ক হতে হবে; মার্জিত রংয়ের ফরমাল শার্ট ও প্যান্ট পড়তে হবে। শার্টে বোতাম নাই, বেশি চকচকে অশোভন দেখায় এমন শার্ট ও প্যান্ট কর্মস্থলে গ্রহনযোগ্য নয়।
ঢ) স্টাফদের অফিসে আইডি কার্ড ব্যবহার ও নির্ধারিত পোশাক পরিধান করতে হবে।
ণ) স্যান্ডেল/স্লিপার ও কেডস ব্যবহার করা যাবে না। জুতা বা শু ব্যবহার করতে হবে।
ত) পুরুষ কর্মকর্তা বা কর্মচারীগনের লম্বা চুল, দৃষ্টিকটু এমন চুলের স্টাইল কর্মস্থলে গ্রহনযোগ্য নয়।
থ) নারী কর্মকর্তা বা কর্মচারীগনের ফ্যান্সি ড্রেস বা দৃষ্টিকটু ও অশোভন দেখায় এমন কোন ড্রেস কর্মস্থলে গ্রহনযোগ্য নয়।
দ) সহকর্মীদের প্রতি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে মীমাংসা করতে হবে।
ধ) এছাড়াও টেলিফোন বা মোবাইলে গ্রাহকদের সাথে সার্ভিস প্রদানের তথ্য দেয়া ও অভিযোগ গ্রহন করা এবং অন্যান্য কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে আলাপচারিতার সময় নিজের নাম ও পরিচয় দিয়ে (গ্রাহকদের সাথে কথা বলার সময় কোম্পানীর নাম উল্লেখপূর্বক) ফোন করার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে হবে এবং সালাম ও ধন্যবাদ দিয়ে বিনয়ের সাথে আলাপ শেষ করতে হবে।
ন) গ্রাহক ও অন্যান্য কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে কোম্পানী ও অন্যান্য স্টাফদের বিষয়ে নেতিবাচক বা ইতিবাচক অতিরিক্ত/প্রয়োজন নাই এমন অহেতুক কথা-বার্তায় লিপ্ত থাকা যাবে না। এছাড়াও রাজনৈতিক ও ধর্মীও উস্কানীমূলক আলোচনা এড়িয়ে চলতে হবে।
প) অফিস কর্মঘন্টার মধ্যে অফিস প্রাঙ্গন ত্যাগ করে চায়ের দোকান বা অনুমতি ছাড়া অন্যত্র অবস্থান করা যাবে না।
ফ) প্রত্যেক স্টাফদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাসময়ে সম্পাদন করাও আচরণ বিধি ও শিষ্টাচার বজায় রাখার মধ্যে পড়বে।
কতিপয় কার্যাদি সম্পাদন নিষেধ:
ক) প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ মালামাল যেমন, যেকোন ধরনের মাদক দ্রব্য (ইয়াবা,গাঁজা,মদ), অবৈধ ঔষধ, কাঁচের বোতল, গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার, এসিড জাতীয় পদার্থ, এসিড ভর্তি ব্যাটারি, সরকার অনুমোদিত চালানপত্র বা কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বিহীন বিদেশী মালামাল, লাইসেন্স বিহীন আগ্নেয়াস্ত্র, বন অধিদপ্তর ক্লিয়ারেন্স বিহীন ফার্নিচার বা গাছ বা কাঠ প্রভৃতি বুকিং সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
খ) কোম্পানীর নির্ধারিত সেবার আওতাধীন একটি সার্ভিসের আওতাধীন মালামাল অন্য সার্ভিসে বুকিং করা।
গ) কোম্পানীর নিয়ম নীতির পরিপন্থী যেকোন কাজ করা।
ঘ) কম্পিউটার সিস্টেমের আওতায় আছে এমন কাজের বাহিরে ডামি সিএন বা ঘোষনাপত্রে বুকিং করা, ম্যানুয়ালী মেনিফেস্ট তৈরী করা বা সিস্টেমের আওতাধীন পিনকোড ছাড়া ডেলিভারী করা।
ঙ) কোম্পানী নির্ধারিত গাড়ি ভিন্ন অন্য কোন গাড়ি ভাড়া নিয়ে রিজার্ভ ট্রিপ নেওয়া।
চ) কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি করা বা সৃষ্টিতে উস্কানি দেওয়া বা সহযোগিতা করা।
ছ) নির্ধারিত কর্মঘন্টার মধ্যে কোম্পানীর দায়িত্ব বা কাজের বাহিরে অন্য কোন কোম্পানীর পক্ষ্যে বা ব্যক্তিগত কাজে সময় দেওয়া।
জ) কোম্পানীর ও গ্রাহকদের অর্থকে পূঁজি করে বা রুলিং করে নিজের ব্যবসায় খাটানো বা লগ্নি দেওয়া বা অন্য কাউকে ধার/ঋণ দেওয়া।
ঝ) অন্য কোন কোম্পানীর ব্যবসায় উন্নতি ও পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কনসালটেন্সি বা পরামর্শ দেওয়া।
ঞ) কোম্পানীর সম্পদ ও সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কোন উদ্যোগ বা কাজ করা।
ট) কোম্পানীর সেবা ও পরিধির আওতা বহির্ভূত সেবা প্রদান করা।
ঠ) কোম্পানীর নামে মালামাল ক্রয় করে নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা কিংবা, স্টোর থেকে স্টেশনারি মালামাল গ্রহন করে নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা।
ড) কর্মকৌশল ও পরিচালনা নির্দেশিকায় উল্লেখিত অনুচ্ছেদ, বিধি বা উপবিধি কিংবা কোম্পানীর সেবা প্রদানের কোন প্রচলিত নিয়ম বা নির্দেশ ভিন্ন অন্যকোন নির্দেশনা অনুসরন করা।
ঢ) বিলম্বে অফিসে প্রবেশের কারনে সর্বনিম্ন ০৩ (তিন) দিনের জন্য একদিনের বেতন কর্তন হবে এবং কর্মঘন্টা শেষ হওয়ার পূর্বেই অফিস ত্যাগ করলে শাস্তির আওতায় নেওয়া যেতে পারে।

No comments:
Post a Comment
Thanks for the encouragement by commenting.